ADVERTISEMENT
World

যে সকল কারণে ট্রাম্পের ভরাডুবি!

যে সকল কারণে ট্রাম্পের ভরাডুবি!
সময়বার্তা২৪ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণও চলে গেছে তাদের হাতে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দলকে কিছুটা বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়। ট্রাম্পের ইচ্ছামতো আইন বানিয়ে আর সেটি বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়বে। চাইলে বর্তমান প্রেসিডেন্টের সকল কাজের মধ্যে হস্তক্ষেপ করতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা। তবে এবার রিপাবলিকানদের পরাজয়ের ব্যাপকতাকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই বছরের শাসনের বিরুদ্ধে ভোটারদের স্পষ্ট প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্ষুব্ধ ভোটার থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্টের কম জনপ্রিয়তা, নানা কারণে এই নির্বাচনে আসন হারিয়েছে রিপাবলিকান পার্টি। দলটির বড় পরাজয়ের পেছনে প্রধান পাঁচটি কারণ তুলে ধরেছে বিবিসি। আমেরিকা জুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে ভুগছেন সাধারণ মানুষ। গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকাগুলোতে ভোটারদের ক্ষোভও ছিল স্পষ্ট। নির্বাচনের আগে নর্থ ক্যারোলাইনার এক ভোটার বিবিসিকে বলেন, ‘জ্বালানির দাম, মুদি পণ্যের দাম, সবকিছুর দামই বাড়ছে।’ এ কারণে এবারের নির্বাচনে তিনি রিপাবলিকান থেকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন বলেও জানান। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কারণে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরুতে দেশটিতে খুচরা ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৬ দশমিক ৫২ ডলারের রেকর্ড দামের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। গত সেপ্টেম্বরে এই রেকর্ড দাম দেখা যায়। ভোটারদের ওপর পরিচালিত এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে মূল্যস্ফীতির কারণে ৭৯ শতাংশ ভোটার ও তাদের পরিবার মাঝারি থেকে গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়া ৬০ শতাংশের বেশি উত্তরদাতা এ মূল্যবৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন। তাদের মতে, প্রেসিডেন্টের নীতির কারণেই পণ্যের দাম স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানো যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম বড় কারণ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এই যুদ্ধ শুরু করে। এর জবাবে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যায়। বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষকেও জ্বালানির বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে। যুদ্ধটি অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকের কাছেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘মাগা’ সমর্থকদের কাছেও এটি ছিল প্রতিশ্রুতিভঙ্গের শামিল। কারণ, নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কথা বলে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়াবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ভোটারদের ওপর পরিচালিত এক জরিপে ৬৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভুল ছিল। অন্যদিকে, ৭৪ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, কংগ্রেস নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরান যুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ বা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। নির্বাচনের পরদিন ট্রাম্প স্বীকার করেন, পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের ভূমিকা ছিল। তবে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকাতে সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়া তার আর কোনো উপায় ছিল না। ডেমোক্র্যাটদের সুসংগঠিত নির্বাচনী প্রচার ডেমোক্র্যাটদের এই বড় জয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তাদের প্রার্থীদের শক্তিশালী প্রচার। বিশেষ করে ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান-সমর্থিত এলাকাগুলোতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা নিজেদের বিশ্বাসযোগ্য ও জনসম্পৃক্ত হিসেবে তুলে ধরতে পেরেছেন। তারা জীবনযাত্রার ব্যয় ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ নিয়ে সুসংগঠিত বার্তা দিয়েছেন। সাবেক শিক্ষক জেমস তালারিকো এবং যাজক অ্যাডাম হ্যামিলটন যথাক্রমে টেক্সাস ও কানসাসে নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা এমনভাবে তুলে ধরেছেন, যা ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। সাউথ ক্যারোলাইনায় বড় চমক দেখিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। সাবেক এই শিশু চিকিৎসক স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানোর বিষয়টিকে প্রচারের কেন্দ্রে রেখেছিলেন। দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে অনেকেই অকার্যকর মনে করেন। ফলে তার এই অবস্থান ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে। মিশিগানে জয়ী হয়ে ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকা আসনটি ধরে রেখেছেন সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল এল-সায়েদ। তার প্রচারের অন্যতম স্লোগান ছিল, ‘রাজনীতি থেকে অর্থ সরিয়ে মানুষের পকেটে অর্থ ফেরত দেওয়া।’ জর্জিয়ায় পুনর্নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফও জীবনযাত্রার ব্যয় ও দুর্নীতিকে প্রচারের প্রধান বিষয় করেছিলেন। ৩৯ বছর বয়সি এই নেতার বড় ব্যবধানে জয় ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জর্জিয়ায় জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। এমনকি ট্রাম্প নিজেও ডেমোক্র্যাটদের প্রশংসা করে ফক্স নিউজকে বলেছেন, ‘তারা ভালো করেছে।’ অন্যদিকে, টেক্সাসের কেন প্যাক্সটনের মতো কয়েকজন রিপাবলিকান প্রার্থীর বিরুদ্ধে দুর্বল নির্বাচনী প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ভোটারদের উদ্বেগ ও চাহিদাকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়ার কারণেও তারা সমালোচিত হয়েছেন।
ADVERTISEMENT In-Article Advertisement